ইন্দোনেশিয়ায় জোড়া স্বর্ণপদক জিতে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়ালো কিশোর উদ্ভাবক নিভীর
মেধা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী শক্তির অনন্য সমন্বয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আবারও উজ্জ্বল হলো বাংলাদেশের নাম। ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তায় অনুষ্ঠিত দুটি মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক উদ্ভাবন ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশের ১৬ বছর বয়সী কিশোর উদ্ভাবক ইয়াসতাহী উল আলম নিভীর। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শত শত প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক অর্জনের মাধ্যমে দেশকে এনে দিয়েছে এক গৌরবময় সাফল্য।
নিভীর রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল-এর দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অল্প বয়স থেকেই বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের প্রতি তার প্রবল আগ্রহ তাকে নতুন সম্ভাবনার সন্ধানে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং জ্ঞান অর্জনের অদম্য ইচ্ছাই তাকে আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই অসাধারণ অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, Innovation World Cup 2026 এবং International Invention & Innovation Competition 2026-এ অংশ নিয়ে নিভীর তার উদ্ভাবনী চিন্তাধারা, গবেষণাভিত্তিক দক্ষতা এবং সৃজনশীল প্রকল্পের মাধ্যমে বিচারকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে। বিশ্বের ১৬টি দেশের ৪৫৮ জন উদ্ভাবক, গবেষক ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতাগুলো ছিল মেধা ও সৃষ্টিশীলতার এক আন্তর্জাতিক মিলনমেলা। গত ৬ জুন অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে নিভীর উভয় প্রতিযোগিতায় আন্তর্জাতিক স্বর্ণপদক (International Gold Medal) অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবময় সাফল্য বয়ে আনে। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে সে শুধু নিজের মেধার স্বাক্ষরই রাখেনি, বরং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মর্যাদাকে আরও সুদৃঢ় করেছে।
তার এই অর্জন নিছক দুটি স্বর্ণপদক জয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের সক্ষমতা, সম্ভাবনা এবং সৃজনশীল শক্তির এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তিনির্ভর যুগে এমন সাফল্য প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের তরুণরাও বৈশ্বিক উদ্ভাবন, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম।
নিভীরের এই অনন্য অর্জনের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর শিক্ষক, সহপাঠী, অভিভাবক, বিজ্ঞানমনস্ক মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও শিক্ষামূলক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দনের বন্যা বইছে। অনেকেই মনে করছেন, তার এই সাফল্য দেশের অসংখ্য শিক্ষার্থীকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের পথে এগিয়ে যেতে নতুন করে অনুপ্রাণিত করবে।
মাত্র ১৬ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এমন সাফল্য অর্জন করে নিভীর প্রমাণ করেছে যে স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়। তার এই কৃতিত্ব শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের উদীয়মান প্রজন্মের সাহস, মেধা এবং সম্ভাবনার প্রতীক।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে