Views Bangladesh Logo

অটোরিকশা ধর্মঘটে নাকাল ময়মনসিংহ নগরবাসী

বিভাগীয় নগরী ময়মনসিংহে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল বন্ধে চরম দুর্ভোগে হাসপাতালগামী রোগী ও শিক্ষার্থীসহ নগরবাসী।

‘নগর গণপরিবহন’ খ্যাত এই যানটিকে সব সড়কে চলাচলের অনুমতি দেয়ার দাবিতে রোববার (২৬ জানুয়ারি) রাত থেকে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে নেমেছেন চালকরা। সেদিন সকাল থেকে অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেন তারা। সন্ধ্যায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে রেলওয়ে কৃষ্ণচূড়া চত্বরের সমাবেশে ধর্মঘটের ঘোষণা আসে।

সরেজমিন দেখা গেছে, সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নগরীর সড়কগুলোতে যান সংকটে দুর্ভোগে পড়ছেন যাত্রীরা। অনেককে হেঁটে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। এ সুযোগে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছেন অনেক রিকশাচালক।

শিক্ষক আব্দুল আলিম বলেন, ‘হঠাৎ ডাকা ধর্মঘটে সকালে রাস্তায় নেমে অটোরিকশা বা মিশুক পাইনি। দ্বিগুণ ভাড়ায় রিকশায় কর্মস্থলে গিয়েছি। এর সুষ্ঠু সমাধান হওয়া দরকার।’

হেঁটে পাটগুদাম ব্রিজ থেকে চরপাড়া মোড়ে যাচ্ছিলেন মধ্যবয়সী আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অটোরিকশা চালকদের দাবি যৌক্তিক। তাদের সব সড়কে চলাচলের অনুমতি দিয়ে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ সুশৃঙ্খল করতে হবে। এতে যানজট নিয়ন্ত্রণে থাকবে।’

‘অটোরিকশা বন্ধ থাকায় রিকশাচালকরা ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন। তাই হেঁটেই যাচ্ছি’- বলেন তিনি।

অটোরিকশা চালক আব্দুর রহিম বলেন, ‘ধর্মঘটে আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। গাড়ি বন্ধ রাখায় পকেট ফাঁকা। আজ বাজার করতে পারবো না। তবুও দাবি আদায়ে আন্দোলন করছি।’

ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের সচিব ও ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদ জানান, গত ১৮ জানুয়ারি যানজট কমাতে নগরীর নির্দিষ্ট ছয়টি সড়কে সব ধরনের অটোরিকশা ও মিশুক চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন। এতে চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জনসাধারণের দুর্ভোগের কথা চিন্তা না করেই ধর্মঘট করছেন। আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

সড়কগুলো হচ্ছে জিলা স্কুল মোড়, নতুনবাজার, গাঙ্গিনারপাড়, সি কে ঘোষ রোড, দুর্গাবাড়ী রোড এবং স্বদেশি বাজার।

জেলা অটোবাইক মালিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হোসাইন আহমেদ সুজন বলেন, ‘সব সড়কে গাড়ি চালানোর অনুমতি চেয়ে ১৯ জানুয়ারি কর্মবিরতি এবং জেলা প্রশাসক ও সিটি করপোরেশন কার্যালয় ঘেরাও ও বিক্ষোভ করা হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন সিদ্ধান্তে অটল থাকায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রেখেছেন চালক ও মালিকরা।’

সুজন জানান, নগরীর সব সড়কে আগের মতোই অটোরিকশা ও মিশুক চলাচলের সুযোগ চান মালিক-চালকরা। এ দাবি আদায় না হলে আরও কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ