ফিলিপাইনে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৫, বাস্তুচ্যুত ১০ হাজার পরিবার
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা ৭.৮ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সোমবার সকালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়াও আহত হয়েছেন আরও ১৩৪ জন এবং প্রায় ১০ হাজার পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতির সিংহভাগই ঘটেছে সোক্সসার্জেন অঞ্চলে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী দাভাও অঞ্চলেও বেশ কয়েকজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
শক্তিশালী এই কম্পনে অঞ্চলজুড়ে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে ভূমিধসের পাশাপাশি বহু ভবন ধসে পড়েছে, যার মধ্যে স্থানীয় একটি জনপ্রিয় ‘জলিবি’ রেস্তোরাঁও রয়েছে। মূল ভূমিকম্পের পর ওই এলাকায় ১৩০টিরও বেশি ‘আফটারশক’ বা মৃদু ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ায় প্রাথমিক সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে সমুদ্র উপকূলে কেবল মৃদু ঢেউ পরিলক্ষিত হওয়ায় পরবর্তীতে সেই সতর্কতা প্রত্যাহার বা করা হয়।
দুর্যোগের পর ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র জনগণকে আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় জাতীয়ভাবে সমন্বিত উদ্ধার ও ত্রাণ অভিযান শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি অবিলম্বে সব স্কুল-কলেজের ক্লাস স্থগিত করার নির্দেশ দেন। কাকতালীয়ভাবে, সোমবারই দেশটির নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিন ছিল।
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ফিলিপাইন ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয় ও ঝুঁকিপূর্ণ ‘রিং অব ফায়ার’-এর ওপর অবস্থিত। ফলে দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প হয়ে থাকে। তবে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে মিন্দানাও দ্বীপের এই ভূমিকম্পটিকে অন্যতম বিধ্বংসী বলে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে