Views Bangladesh Logo

নেপালে ভূমিকম্পে অন্তত ১১৯ জন নিহত

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে কমপক্ষে ১১৯ জন মারা গেছেন। এছাড়াও আহত হয়েছেন আরও প্রায় ১০০ জন।
শনিবার (৪ নভেম্বর) দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরইমধ্যে উদ্ধার অভিযানে সহায়তা করতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১৮ কিলোমিটার।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা ভিডিও এবং ছবিতে দেখা গেছে, ধসে পড়া বাড়ি ও ভবনের ধ্বংসাবশেষ থেকে বেঁচে যাওয়া লোকদের বের করতে অন্ধকার ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে খনন কাজ পরিচালনা করছেন স্থানীয়রা।
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে, বলা হয়েছে এএফপির প্রতিবেদনে। 
কর্নালি প্রদেশের পুলিশের মুখপাত্র গোপাল চন্দ্র ভট্টরাই এএফপিকে বলেছেন, "মৃতের সংখ্যা ১১৯-এ পৌঁছেছে এবং অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন।"
"জেলাগুলো প্রত্যন্ত অঞ্চলে হওয়ায় দ্রুত তথ্য পাওয়া কঠিন" বলেও মন্তব্য করেন পুলিশের এই মুখপাত্র।

তিনি আরও বলেন, “অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য নেপালের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপকভাবে মোতায়েন করা হয়েছে। কিছু রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আমরা বিকল্প পথ দিয়ে এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছি।"
ভূমিকম্পের ঘটনায় দেশটির জেলা হাসপাতাল আহত স্থানীয়দের দ্বারা পূর্ণ ছিল।
এদিকে, নেপাল একটি প্রধান ভূতাত্ত্বিক ফল্টলাইনে অবস্থিত। যেখানে ভারতীয় টেকটোনিক প্লেট ইউরেশিয়ান প্লেটকে ধাক্কা দিলে হিমালয় পর্বতমালার সৃষ্টি হয়। এখানে ভূমিকম্প একটি নিয়মিত ঘটনা।
এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নারায়ণ প্রসাদ ভট্টরাই বলেন, "ভূমিকম্পের কারণে দুটি জেলায় মানবিক ও শারীরিক ক্ষতি হয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।"
নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল ভূমিকম্পে সৃষ্ট মানবিক ও শারীরিক ক্ষতির জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে, ভারতীয় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা উত্তরের শহর লখনউ এবং পাটনায় শুক্রবার ভূমিকম্প অনুভব করেছেন বলে জানিয়েছেন।
এর কয়েক ঘণ্টা পর একই এলাকায় ভূমিকম্প-পরবর্তী কম্পন হয় বলে জানিয়েছে ইউএসজিএস, যার মাত্রা ছিল চার।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে নেপালে সাত দশমিক আট মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় নয় হাজার মানুষ মারা যায় এবং ২২ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়। এতে প্রায় আট হাজার স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে যায়। যার ফলে শ্রেণিকক্ষবিহীন হয়ে পড়ে প্রায় ১০ লাখ শিশু। সেই ভূমিকম্পে ধ্বংস হয়ে যায় স্মৃতিসৌধ ও রাজপ্রাসাদসহ কয়েকশ দর্শনীয় স্থান।
গত বছরের নভেম্বরে জাজারকোটের নিকটবর্তী দোতি জেলায় পাঁচ দশমিক ছয় মাত্রার ভূমিকম্পে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছিল।


মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ