আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়: এইচআরডব্লিউ
সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয় বলে মন্তব্য করেছে নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’।
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পারিবারিক বাড়ি ভাঙার পটভূমিতে বৃহস্পতিবার তাদের এশিয়া বিষয়ক উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে প্রকাশ করা একটি বিবৃতিতে এসব কথা বলেন।
‘উচ্ছৃঙ্খল জনতা ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক বাড়ি ধ্বংস করেছে’শীর্ষক এই বিবৃতিতে শেখ হাসিনার পারিবারিক বাড়ি এবং তার আত্মীয়স্বজন এবং দলীয় নেতাদের মালিকানাধীন সম্পত্তি ভাঙার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়াও এতে আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচআরসি) অধিবেশনে বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি উন্নতির জন্য একটি সর্বসম্মত প্রস্তাব উপস্থাপন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
এইচআরডব্লিউ মনে করে, বাংলাদেশের ন্যায়বিচার দেখতে আগ্রহী জনগণের জাতিসংঘ-সমর্থিত প্রক্রিয়াকে (মেকানিজম) সমর্থন করা উচিত, যা সহিংসতা ও প্রতিশোধের বদলে একটি নিরাপদ গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়তে সহায়তা করবে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত আগস্টে শেখ হাসিনার প্রায় ১৫ বছরের শাসনের অবসান হয়। তার সরকারের বিরুদ্ধে জনমত দমন, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমের মতো অপরাধের অভিযোগ ছিল। সরকারি চাকরিতে কোটার ইস্যুতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন কঠোর হাতে দমন করতে গিয়ে প্রায় আট শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে। পরিস্থিতি এতোটাই নাগালের বাইরে চলে যায় যে, তৎকালীন সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক সহিংসতার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। একই আবর্তে তাদের আবার জড়িয়ে পড়াটা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
এদিকে, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংস্কারের কাজ শুরু করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তাদের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দুর্নীতি প্রতিরোধে দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের পাশাপাশি স্বচ্ছ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করা। তবে, অন্যান্য রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী এবং জুলাই-আগস্টে ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের মধ্যে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে অস্থিরতা বাড়ছে।
তাদের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রদানে ব্যর্থতার অভিযোগ থাকলেও এগুলোকে মিথ্যা প্রচারণা বলে দাবি করছে সরকার। তবে হিন্দু সম্প্রদায়সহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বস্ত করতে তারা সফল হয়েছে, সেটাও জোর দিয়ে বলা যাচ্ছে না।
অন্তর্বর্তী সরকারকে কিছু পরামর্শ দিয়ে সংস্থাটির বিবৃতিতে বলা হয়, ইউনূস সরকারের উচিত জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ আহ্বান করতে একটি সম্মিলিত প্রস্তাব উপস্থাপন করা এতে আগের সরকারের নির্যাতন-নিপীড়ন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গৃহীত ইতিবাচক মানবাধিকার পদক্ষেপগুলোর স্বীকৃতি থাকা উচিত।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে