বনানীতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা রহমান
বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন প্রয়াত চিত্রনায়িকা অঞ্জনা রহমান।
আজ (৪ জানুয়ারি) দুপুরে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে অভিনেত্রীর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে বিনোদন অঙ্গনের নানা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এদিন সকালে সোয়া ১১টায় অভিনেত্রীর মরদেহবাহী গাড়ি বিএফডিসিতে পৌঁছালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মিশা সওদাগর, ছটকু আহমেদ, আলমগীর, ইলিয়াস কাঞ্চন, নির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী, অপু বিশ্বাস, পলি আক্তার, রোমানা ইসলাম মুক্তি, জয় চৌধুরী, মেহেদী, নৃত্য পরিচালক ইউসুফ খান, শ্রাবণ সাহা, সনি রহমানসহ অনেক জনপ্রিয় মুখ।
অঞ্জনার ছেলে নিশাত রহমান মনি জানান, বাদ জোহর এফডিসিতে জানাজা শেষে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয়ছিল তেজগাঁওয়ের চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানেও আরেকটি জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে তাকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।
মনি বলেন, "আম্মু বেশ সুস্থ ছিল, মাঝে মাঝে জ্বর আসত, তবে কিছু দিন আগেও বাসায় মেহমানদের জন্য নিজ হাতে রান্না করে খাইয়েছিল। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করে ওষুধ খাচ্ছিল। কিন্তু অসুস্থতা বাড়লে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ৪ দিন আগে সে আইসক্রিম খেতে চেয়েছিল।"
মনি আরও বলেন, "এখনও আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে, আমার সুস্থ মা কীভাবে এত বড় অসুস্থতার শিকার হয়ে গেল। এটি আমার সারা জীবনের আফসোস হয়ে থাকবে।"
গত ৩ জানুয়ারি রাত ১টা ১০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় অঞ্জনা রহমান মারা যান।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খ্যাতি অর্জনকারী অঞ্জনা ছিলেন নৃত্যশিল্পী এবং এক সময়ের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা। ১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরীর 'সেতু' চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে অভিনয় জীবনে পথচলা শুরু করেন অঞ্জনা। তবে তার মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র শামসুদ্দিন টগর পরিচালিত 'দস্যু বনহুর'।‘পরিণীতা’(১৯৮৬) এবং ‘গাঙচিল’(১৯৮১) সিনেমায় তার অভিনয় ছিল প্রশংসিত, যার জন্য তিনি দুবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও লাভ করেন।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে