‘চাঁনখারপুলে ছয়জনকে হত্যা’ মামলায় আইসিটিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল
ঢাকার চাঁনখারপুলে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনকালে ‘ছয়জনকে হত্যা’ মামলায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রাক্তন কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিবসহ আটজনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করেছেন রাষ্ট্রপক্ষ। জুলাইয়ের গণআন্দোলন সম্পর্কিত প্রথম মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার এটি আনুষ্ঠানিক সূচনা।
আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির প্রাক্তন উপ-কমিশনার (ডিসি) সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, প্রাক্তন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) শাহ আলম ও মো. আখতারুল ইসলাম, প্রাক্তন সহকারী কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ ইমরুল, শাহবাগ থানার প্রাক্তন পুলিশ পরিদর্শক মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন হোসেন, ইমাজ হোসেন এবং মো. নাসিরুল ইসলাম।
তাদের মধ্যে শেষের চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন, অন্যরা পলাতক।
চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রারের কাছে রোববার (২৫ মে) এই অভিযোগ আনুষ্ঠানিক দাখিল করেন বলে সাংবাদিকদের জানান প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম। বিচারপতি গোলাম মোর্তোজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে এখন আনুষ্ঠানিক বিচারিক প্রক্রিয়া চলবে।
২০ এপ্রিল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে বিস্তৃত প্রতিবেদন জমা দেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
তদন্ত প্রতিবেদনটির অভিযোগে বলা হয়েছে, চানখাঁরপুলে নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার ও গুলি করে শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ মাহদি হাসান জুনায়েদ, মো ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো ইসমামুল হক এবং মানিক মিয়াকে হত্যা করেন আসামিরা।
আরও অভিযোগ করা হয়েছে, হাবিবুর রহমানসহ পলাতক আসামিরা ঘটনাস্থলে অধস্তনদের গুলি চালানোর নির্দেশ দেন, যা হত্যাযজ্ঞকে সহজ করে তোলে। বিক্ষোভ দমনে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও এপিসি যানবাহন, হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রচুর পরিমাণে গোলাবারুদ ব্যবহার করা হয়।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল সেদিন সাংবাদিকদের জানান, প্রতিবেদনটি ৯০ পৃষ্ঠার। তদন্ত করতে তদন্ত সংস্থার সময় লেগেছে ছয়মাস ১৩ দিন। এতে ৭৯ সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং ১৯টি ভিডিও, পত্রিকার ১১টি রিপোর্ট, দুটি অডিও, ১১টি বই ও রিপোর্ট ও ছয়টি ডেথ সার্টিফিকেট সংযুক্ত করা হয়েছে।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন নির্মূলে আওয়ামী লীগ সরকার, তার দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ ‘গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ’ সংঘটিত করে বলে ট্রাইব্যুনালে একের পর এক অভিযোগ জমা পড়ে। এসব অপরাধের মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে