Views Bangladesh Logo

বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি মুছে ফেলায় জাবি ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতা বহিষ্কার

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

চার বছরের পুরনো বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি মুছে ফেলায় জাবি ছাত্র ইউনিয়নের দুই নেতাকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বহিষ্কৃত নেতারা হলেন-ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের একাংশের সভাপতি অমর্ত্য রায় এবং সাধারণ সম্পাদক ঋদ্ধ অনিন্দ্য গাঙ্গুলি। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের সভাপতিত্বে সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আবু হাসান সাংবাদিকদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি মুছে ফেলার ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশে অর্মত্য রায় ও ঋদ্ধ অনিন্দ্যকে এক বছরের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বুধবার রাষ্ট্রীয় আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

এদিকে সিন্ডিকেটের সভায় ছাত্র ইউনিয়নের এই দুই নেতার বহিষ্কার আদেশের প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন সংগঠনের অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে মিছিল করে রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে বক্তৃতাকালে গণকৃষ্টি সংগঠনের সদস্য ফাইজা মেহজাবিন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের নিপীড়নের বিভিন্ন অভিযোগ বছরের বছর আটকা পরে থাকে সেগুলোর বিচার হয় না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক ধর্ষণ ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে আঁকা গ্রাফিতি, যা অন্যায্য ছিল না বরং আন্দোলনের একটি প্রতীক ছিল। প্রশাসন আমাদের সাথে একাত্মতা ঘোষণা না করে সম্পূর্ণভাবে জিম্মি করে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিল। যা ৫২ সালের মুখে ভাষা কেড়ে নেওয়ার সামিল।’

চলচ্চিত্র আন্দোলনের সদস্য সুদীপ্ত দে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের দলদাসে পরিণত হয়েছ। ক্ষমতার সাথে সম্পর্কিত কারো সাথে প্রশাসন সঠিক বিচার করে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনরত দুইজন শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ব্যবহার করে অন্যায্যভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

এছাড়া জেইয়ুপিএস সদস্য নিকি জামান বলেন, ‘প্রশাসন হলে অবৈধ শিক্ষার্থী ও ক্যাম্পাসে ড্রাগ সিন্ডিকেট নিয়ে কোনো ধরনের সরাসরি পদক্ষেপ নেয় না অথচ ধর্ষণ বিরোধী গ্রাফিতি আঁকার জন্যে কেন এক বছরের বহিষ্কার আদেশ কেন হবে! এই অন্যায্য দাবির জন্য আমরা কঠিনতম আন্দোলনের দিকে যাবো।’

জানা গেছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ভবনের দেয়ালে চার বছরের পুরনো বঙ্গবন্ধুর গ্রাফিতি মুছে ধর্ষণবিরোধী গ্রাফিতি আঁকেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের একাংশের (অমর্ত্য রায়-ঋদ্ধ অনিন্দ্য) নেতাকর্মীরা। ব্যঙ্গচিত্রে একটি নারীর অবয়ব, ছয়টি মাথার খুলিসহ একটি পতাকা আঁকা হয়। এর পাশেই লিখা হয় ‘ধর্ষণ ও স্বৈরাচার থেকে আজাদী’।

এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে ১৫ ফ্রেব্রুয়ারি দুপুর থেকে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তিসহ তিন দফা দাবিতে টানা চারদিন অনশনে বসেন ছাত্রলীগের দুই নেতা। পরে উপাচার্যের আশ্বাসে গত রবিবার রাতে অনশন ভাঙেন তারা।

এ ছাড়াও এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দুই সংগঠন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ