সংঘর্ষ চলছে তুম্ব্রু সীমান্তে, প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে ১০৬ বিজিপি সদস্য
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর ১০৬ জন সদস্য অস্ত্রসহ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাদেরকে নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ব্যাপারে পরবর্তী কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানায় বিজিবি।
এ ব্যাপারে সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের বিজিবি কক্সবাজারের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোরাশেদ আলম জানান, সকাল পর্যন্ত ৯৫ জন সদস্য এসেছিল বাংলাদেশে। বিকালে আরও ৮ বিজিপি সদস্য প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশ সীমান্তে পালিয়ে এসেছে। বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় তাদের আশ্রয় দিতে সাড়া দিয়েছেন তারা এবং তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাও গ্রহণ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং বাংলাদেশি নিহতের ঘটনায় সাথে সাথেই মিয়ানমারকে প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে। সেইসঙ্গে স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে থাকতেও অনুরোধ করেছেন তিনি।
এ ছাড়াও পুনরায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ যাতে না ঘটে সেদিকেও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী নজর রাখছে বলে জানান বিজিবির এই কর্মকর্তা।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল থেকেই বেতবুনিয়া ঢেকিবুনিয়া ক্যাম্পেও হামলা চালায় আরাকান আর্মি। এ সময় জান্তা বাহিনীর হেলিকপ্টারকে পালটা হামলা চালাতে দেখা গেছে।
এ বিষয়ে র্যাব ১৫ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক আবু সালাম চৌধুরী জানান, এ ঘটনার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে সীমান্ত এলাকায় আসে র্যাবের একটি দল। এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা যেনো অবনতি না হয়, তাই তারা কাজ করছে।
উল্লেখ্য, এখন পর্যন্ত মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ১০৬ সদস্য আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। এ ছাড়াও পালিয়ে আসা বিজিপির আহত ১৫ সদস্যকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল কক্সবাজার সদর হাসপাতাল এবং কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে। তাদের মধ্যে সাতজন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার বিকেলে এর মধ্যে তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম পাঠানো হয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে