Views Bangladesh Logo

ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে আগামীকাল থেকে চলবে ১০টি স্পেশাল ট্রেন: রেলমন্ত্রী

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে আগামীকাল সোমবার (২৫ মে) থেকে রেলে ৫ জোড়া অর্থাৎ অতিরিক্ত ১০টি বিশেষ বা স্পেশাল ট্রেন চলাচল শুরু করবে। একই সঙ্গে সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে এবং যাত্রা আরামদায়ক করতে রেলওয়ের বহরে নতুন করে আরও ৫১টি বিশেষ কোচ যুক্ত ও উন্মুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সকালে রাজধানী ঢাকার কেন্দ্রীয় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঈদে ঘরমুখো মানুষের সার্বিক যাতায়াত ব্যবস্থা এবং রেলের সামগ্রিক কর্মযজ্ঞ সরেজমিনে পরিদর্শন করতে গিয়ে সরকারের রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম গণমাধ্যমকর্মীদের এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ সময় রেলের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন।

স্টেশন পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করেন যে, ঈদের সময় রাজধানী ছেড়ে যাওয়া মানুষের যে বিপুল পরিমাণ উচ্চ চাহিদা থাকে, সেই তুলনায় বর্তমানে আমাদের ট্রেনের সংখ্যা, রেললাইনের সক্ষমতা, লোকোমোটিভ এবং কোচের সংখ্যা পর্যাপ্ত নয়। তিনি জানান, সাধারণ সময়ে আমরা প্রতিদিন প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে আন্তঃনগর ট্রেনের মাধ্যমে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতের সুব্যবস্থা করে দিতে পারি। পবিত্র ঈদ উপলক্ষে এই সক্ষমতা আরও ২৫ শতাংশ বাড়িয়ে অতিরিক্ত আরও প্রায় ৪ হাজার যাত্রীকে ট্রেনে যাতায়াতের সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। তবে দেশের লাখ লাখ মানুষের ট্রেনে চড়ে বাড়ি যাওয়ার তীব্র ইচ্ছা থাকায়, এই বিশাল জনস্রোতের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা আমাদের জন্য প্রতি বছরই একটি বড় ধরনের কঠিন চ্যালেঞ্জ।

শেখ রবিউল আলম আরও বলেন, আমাদের দেশের যেসব রেললাইনে বা পয়েন্টে বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি রয়েছে, যেখানে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বা ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, সেসব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গাগুলো আমরা ঈদের আগেই সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেছি। এই ধরনের সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে এবার বিশেষ ও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থাটি এখনো চলমান আছে এবং রেলের পুরো টিম সবসময় সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে আমাদের রেললাইনের যে সার্বিক অবস্থা ও সার্বক্ষণিক তদারকি ব্যবস্থা রয়েছে, তাতে করে এবার ঈদ যাত্রায় বড় ধরনের কোনো বড় শিডিউল বিপর্যয় বা দুর্ঘটনা ঘটবে না বলে আমরা দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে পারছি। আমাদের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় এবার সর্বোচ্চ মনোযোগ ও শ্রম বজায় রাখা হয়েছে।

ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা এবং সকাল থেকে ট্রেন ছাড়ার বিলম্বের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে রেলমন্ত্রী জানান, আজ সকাল থেকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে সম্ভবত ৩টি ট্রেনের শিডিউলে কিছুটা বিলম্ব বা ডিলে হয়েছে। এর মধ্যে একটি ট্রেন স্টেশনে পৌঁছাতেই দেরি করেছে, কারণ পথিমধ্যে সেটির হুইল স্লিপ বা চাকা পিছলে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। রেললাইনের ওপর স্থানীয় কৃষকদের খড় নাড়ার কারণে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার জুড়ে চাকা পিছলে যাওয়ার এই সমস্যাটি তৈরি হয়। পরবর্তীতে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে সেখানে উদ্ধারকারী বা রিলিফ টিম পাঠিয়ে নতুন করে ট্রেনটিকে সচল করে নিয়ে আসতে হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত যান্ত্রিক সমস্যার কারণেই মূলত ২টি বা ৩টি ট্রেনের ছেড়ে যাওয়ার সময় কিছুটা পিছিয়েছে, যার মধ্যে একটির ২০ মিনিট, একটির ১ ঘণ্টা এবং অন্য আরেকটির সর্বোচ্চ ২ ঘণ্টা বিলম্ব হয়েছে।

রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আরও উল্লেখ করেন যে, আমাদের অনেক রেলওয়ে স্টেশন এখনো পুরোপুরি নিরাপদ বা সিকিউরড নয়। সেগুলোকে চারপাশ থেকে দেয়াল দিয়ে একেবারে আবদ্ধ করা যেমন সম্ভব হয়নি, ঠিক তেমনি সেখানে সাধারণ মানুষের অবৈধ প্রবেশ অধিকারও শতভাগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে এই ধরনের ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থার মধ্যেও যা কিছু সম্পদ ও লজিস্টিকস আমাদের কাছে আছে, তা নিয়েই আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, আমি বিশ্বাস করি এবারের ট্রেন যাত্রা বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি স্বস্তির হবে। কারণ ট্রেনের ভেতরের ও স্টেশনের পরিবেশের এখন আগের চেয়ে অনেকটা উন্নতি হয়েছে। সাধারণ যাত্রীরাও আমাদের জানিয়েছেন যে, ট্রেনের পূর্বের জরাজীর্ণ অবস্থার এখন অবসান ঘটেছে।

টিকিট কালোবাজারি রোধের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এখন যে কোনো সময়ের চেয়ে রেলের সামগ্রিক সার্ভিস অনেক ভালো, পরিবেশ সুন্দর এবং ট্রেনের শিডিউলও যথেষ্ট সন্তোষজনক। এবার অনলাইনে অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শতভাগ টিকিট বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। টিকিট বিক্রির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম, কালোবাজারি বা সিন্ডিকেটের সুযোগ দেওয়া হয়নি। অনলাইনের ডিজিটাল ভিত্তিতে যে যাত্রী আগে সার্ভারে প্রবেশ বা নক করেছেন, তাকেই আমরা টিকিটটি দিতে পুরোপুরি সক্ষম হয়েছি।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ